মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৪°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার ও ত্যাগের মহাকাব্যিক দিন: তারেক রহমান

১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ ও ত্যাগের মহাকাব্যিক দিন: তারেক রহমান

মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয়ের স্বাদ লাভ করে। এই দিনে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং মানচিত্রে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—বাংলাদেশ। এই অর্জনের পেছনে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, সেই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার জন্য যেসব বীর শহীদ জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। পাশাপাশি বিদেশি শাসনের শৃঙ্খল ভাঙতে যেসব মা-বোন অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের প্রতিও রইল গভীর সম্মান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্বানে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর। অদম্য সাহস আর সীমাহীন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে এই বিজয় ছিনিয়ে আনেন। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ এবং বেদনার এক অনন্য দিন।

তিনি বলেন, নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের মূল দর্শন ছিল শোষণমুক্ত সমাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু একটি ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই স্বপ্নকে পদদলিত করে জনগণের ওপর দুঃশাসন চাপিয়ে দেয় এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে।

তারেক রহমানের ভাষ্য, ১৯৭১ সালে দেশ শত্রুমুক্ত হলেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী চক্রান্ত আজও থেমে নেই। গত ১৬ বছরে একের পর এক একতরফা নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে নাগরিক অধিকার, দমন করা হয়েছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের সুযোগ।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রহীন সমাজে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অপব্যবহার ভয়াবহ নৈরাজ্য ডেকে আনে। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর নিপীড়নে বহু মানুষ গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করা এক অবিসংবাদিত নেত্রীকেও অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রাখা হয়েছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, মহান বিজয় দিবসের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। ‘২৪-এর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এক নির্মম একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটে। এতে দেশে আবারও স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশা জাগ্রত হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে এই বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—সব বিভাজন ভুলে মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণ।

শেষে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় কর্মসূচিসহ সব আয়োজন সফল হোক—এই কামনাই করি।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা