মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৮°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

৫৭ দিনের সমুদ্র মিশন শেষে ফিরল আইআরজিসির যুদ্ধজাহাজ ‘শহিদ মাহদাভি’

৫৭ দিনের সমুদ্র মিশন শেষে ফিরল আইআরজিসির যুদ্ধজাহাজ ‘শহিদ মাহদাভি’

দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পরিচালিত যুদ্ধজাহাজ ‘শহিদ মাহদাভি’ দীর্ঘ সমুদ্র অভিযান শেষ করে দেশে ফিরেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ।

৫৭ দিনেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত এই মিশন শেষে জাহাজটি ইরানের জলসীমায় পৌঁছালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলীরেজা তাংসিরি। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি-এর নির্দেশনায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বৈশ্বিক জলসীমায় সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখতে প্রস্তুত।

এই অভিযানে যুদ্ধজাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোর যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ অংশগ্রহণ ইরানের নৌ সক্ষমতা আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তারের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে আসা এই মিশনে জাহাজটি প্রায় ১০ হাজার ৭০০ নটিক্যাল মাইল, অর্থাৎ আনুমানিক ১৮ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এটি ইরানের ১০৩তম নৌবহরের অংশ ছিল। একই বহরে ইরানি সেনাবাহিনীর ‘শহিদ নাকদি’ ডেস্ট্রয়ার ও ‘মাকরান’ ফরওয়ার্ড বেস জাহাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই মিশনের মাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো দক্ষিণ গোলার্ধ ও আটলান্টিক মহাসাগরে অভিযান পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করল। প্রায় ২ হাজার ১০০ টন ওজনের এবং ২৪০ মিটার দীর্ঘ এ যুদ্ধজাহাজটি ২০২৩ সালের মার্চে নৌবহরে যুক্ত হয়। এটি ভাসমান ঘাঁটি হিসেবেও কাজ করতে পারে।

‘শহিদ মাহদাভি’তে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে, যার পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার। পাশাপাশি এটি নজরদারি ও আক্রমণ সক্ষম ড্রোন বহন করতে পারে। জাহাজটিতে ত্রিমাত্রিক ফেজড অ্যারে রাডার, সমুদ্র-থেকে-সমুদ্র ও সমুদ্র-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি সংযুক্ত রয়েছে। এছাড়া আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার, যুদ্ধ ড্রোন ও দ্রুতগতির আক্রমণ নৌযান বহনের সক্ষমতাও রয়েছে এতে।

দীর্ঘমেয়াদি এ সমুদ্র অভিযানের মাধ্যমে ইরান তার নৌ সক্ষমতা ও কৌশলগত উপস্থিতি আরও জোরদার করার বার্তা দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা