আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন পলাতককে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত গুম, নির্যাতন ও হত্যার তিনটি পৃথক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামিদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন সকালে ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতন মামলার অভিযোগ আমলে নেওয়া নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে ৭টার দিকে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের প্রথমে রাখা হয় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় এবং পরে সকাল ৮টার দিকে এজলাসে তোলা হয়।
আদালতে উপস্থিত তিন বিচারপতির সামনে আসামিদের নাম ধরে ডাকা হলে প্রত্যেকেই দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিচয় দেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাঁদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এবং সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৭ জন পলাতক থাকায় তাঁদের হাজির হওয়ার জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
যে সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন — কর্নেল এ কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম এবং মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আর পলাতকদের এক সপ্তাহের মধ্যে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গুমের দুই মামলায় পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ নভেম্বর। এছাড়া রামপুরা এলাকায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আরও দুই আসামিকে হাজির করা হয়, যাঁদেরও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৫ নভেম্বর।”
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।