সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৯°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯ দফা সংস্কার প্রস্তাব: স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহিতা জোরদারের উদ্যোগ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নীতি নির্ধারণ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ৯ দফা সংস্কার প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ৯ অক্টোবর অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ-এর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ সংশোধনের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। চিঠির অনুলিপি অর্থ সচিব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এই সংস্কার প্রস্তাবের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বের মর্যাদা বৃদ্ধি, পরিচালনা পর্ষদের পুনর্গঠন, এবং গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই খসড়া অনুমোদন করা হয় এবং নীতিগতভাবে এটি অধ্যাদেশ আকারে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ড. আহসান এইচ মনসুর চিঠিতে লেখেন, প্রস্তাবিত সংশোধনগুলোর মাধ্যমে অতীতের অনিয়ম ও দুর্বলতা প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি হবে। তিনি বলেন,

“আগেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে তা সফল হয়নি। এখনই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রকৃত স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার।”

তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ সরকারকে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদারের শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। আইএমএফ এ প্রস্তাব প্রণয়নে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দিয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনুমোদনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, যা ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন,

“এটি কোনো উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নয়; বরং বহু আগেই করা উচিত ছিল। সরকার চাইলে খুব সহজেই তা বাস্তবায়ন করতে পারবে।”

সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, সাবেক অর্থ বা পরিকল্পনামন্ত্রী, উপদেষ্টা বা সাবেক গভর্নরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব এড়ানো যায়।

অন্যদিকে, শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত আদালত গঠনের প্রস্তাব এসেছে, যাতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অপসারণ কার্যকর হয়।

এ ছাড়া, প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার-নিযুক্ত পরিচালকের সংখ্যা ৩ থেকে ১-এ নামিয়ে আনা এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ৪ থেকে ৬ করা হবে, যা ব্যাংকের নীতি নির্ধারণে স্বাধীনতা বাড়াবে। বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন গভর্নর, একজন ডেপুটি গভর্নর, তিনজন সচিব, দুজন অর্থনীতিবিদ এবং একজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।

সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবগুলোর একটি হলো, গভর্নরের পদমর্যাদা পূর্ণমন্ত্রীর সমান করার উদ্যোগ, যা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মতো দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রস্তাবিত নতুন ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে —

  • হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা
  • একচেটিয়া ব্যবসা প্রতিরোধ
  • ক্রেডিট রেটিং সংস্থার তদারকি
  • জামানত মূল্যায়ন ও আইনি যাচাই

এসবের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও তথ্য গোপনের প্রবণতা হ্রাস করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,

“এই সংশোধনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে গভর্নরের ব্যক্তিত্ব, স্বাধীন চিন্তাধারা ও কার্যকর নেতৃত্বের ওপর।”

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা