সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৯°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

“বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন: ভোটার উপস্থিতির বড় পরীক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ”

বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সামনে দাঁড়িয়ে আছে প্রধান উপদেষ্টার। কারণ, এই নির্বাচন শুধু দেশের নয়—আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও দৃষ্টি কাড়বে। আর সফল নির্বাচনের মূল শর্ত হচ্ছে ভোটার উপস্থিতি। কেন্দ্রগুলোতে যদি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসে, তাহলে নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের জন্য হবে একটি ইতিবাচক মাইলফলক। কিন্তু উপস্থিতি কম হলে নির্বাচন নিয়ে দেশ–বিদেশে প্রশ্নের ঝড় উঠবে—এটা অনিবার্য।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত ব্যক্তি এবং নোবেলজয়ী হওয়ায় তাঁর উপর প্রত্যাশার চাপও বেশি। দেড় বছর ধরে তিনি চেষ্টা করছেন রাজনৈতিক অস্থিরতার পথ পরিষ্কার করতে। আগস্টের অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলো নানা মত-পথে ছড়িয়ে পড়েছিল। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস এতটাই তীব্র হয়েছিল যে, নির্বাচন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।

জামায়াত ও এনসিপি শুরুতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের বিপক্ষে ছিল। তাদের দাবি ছিল আগে গণভোট, পরে নির্বাচন। আট দল আন্দোলনও শুরু করে। বিএনপিও গণভোটের প্রসঙ্গে আপত্তি জানায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনেন। তিনি কারও সব দাবি মেনে নেননি, আবার অযৌক্তিক দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন। যে বিষয়টি জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে, কেবল সেটুকুই গ্রহণ করেছেন। নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে এমন ভারসাম্য রক্ষা করা নিঃসন্দেহে বিরল নেতৃত্বের উদাহরণ।

বিশেষ করে এনসিপির নির্বাচনমুখী হওয়াটা ছিল বড় একটি সাফল্য। দলটি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি এবং প্রতীক ও নিবন্ধন নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টার মধ্যস্থতা ও অভিভাবকসুলভ ভূমিকার কারণেই সে জট খুলে যায়। সব দলকে নির্বাচনের পথে আনতে যে শ্রম দিতে হয়েছে—তা বাইরে থেকে বোঝা সহজ নয়।

এখন রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুত, সাধারণ মানুষও ভোট দিতে আগ্রহী। এই পরিবেশ তৈরি হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—নির্বাচনকে উৎসবমুখর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করা।

ভোটাররা যেন ভয়-ভীতি ছাড়া কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাখতে হবে নিরপেক্ষ। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ—এসবই এখন অত্যন্ত জরুরি। ভোটার উপস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কি না।

প্রধান উপদেষ্টার জন্য এটাই তাঁর সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও জনগণের দায়িত্বও কম নয়। দলগুলোকে থাকতে হবে সংযত; প্রশাসনকে কাজ করতে হবে ন্যায় ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে। ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসি বদলি করে পুলিশ প্রশাসনে নিরপেক্ষতার পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। জেলা প্রশাসকদের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সবশেষে, নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতহীন ও সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—নাগরিকদের উদ্যোগী হতে হবে। কারণ ভোট মানুষের অধিকার, এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেই অধিকার প্রয়োগ করা দায়িত্ব ও সাহসের পরিচয়।

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে বাংলাদেশ একটি এমন নির্বাচন উপহার দিতে পারবে, যা হবে বিশ্বের কাছে গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে উদাহরণ।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা