বেগম রোকেয়ার ঐতিহাসিক অবদান স্মরণে প্রধান উপদেষ্টা: নারী সমাজকে আলোর পথে এনেছিলেন তিনি
বাংলাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার অসামান্য অবদান স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বেগম রোকেয়া তাঁর সময়ের সমাজকে বদলে দিয়ে নারীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে পথ দেখিয়েছিলেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ‘বেগম রোকেয়া দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি জানান, আগামী ৯ ডিসেম্বর দেশের সর্বত্র এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপিত হবে জেনে তিনি আনন্দিত।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নারীমুক্তি, মানবাধিকার, শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক পরিবর্তনে বেগম রোকেয়ার অবদান জাতি কখনই ভুলবে না। তাঁর নেতৃত্ব ও সংগ্রামই এই অঞ্চলের নারীদের মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ উপলক্ষে তিনি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি আরও বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর রক্ষণশীল সমাজে নারীর উন্নতির একমাত্র পথ ছিল শিক্ষা। সেই উপলব্ধি থেকেই বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষার বিস্তার ও অধিকার আন্দোলনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। তাঁর শুরু করা এই পথে আজও নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
নারী উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
গ্রামীণ অসচ্ছল নারীদের জন্য VWB (Vulnerable Women Benefit) কর্মসূচি,
দরিদ্র গর্ভবতী নারী ও কর্মজীবী মায়েদের জন্য আর্থিক সহায়তা,
তৃণমূল নারীদের স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম,
প্রান্তিক নারীদের উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে সহায়তা,
কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ আবাসনের জন্য ওয়ার্কিং উইমেন হোস্টেল,
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ২৪/৭ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১০৯ চালু রাখা।
তিনি বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নারী অধিকার ও উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা ‘বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫’–এর সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।