মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৬°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

দেশবাসীর প্রতি তারেক রহমানের গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন

দেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হয়েছে। এই সময় দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে যে অকৃত্রিম ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দোয়া আমাদের পরিবার পেয়েছে, তা আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এই কয়েকটি দিনে তারা আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছেন—বেগম খালেদা জিয়া ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করতেন। অনেকের কাছে তার অবদান ও অবস্থান এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, যা হয়তো পরিবার হিসেবেও পুরোপুরি উপলব্ধি করা সম্ভব হয়নি।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, অসংখ্য মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক এবং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর সাহসী অনুপ্রেরণা। রাজনীতির সীমা অতিক্রম করে এই অনুপ্রেরণা আদর্শ, মতাদর্শ ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের অসংখ্য মানুষকে স্পর্শ করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও তার উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ। তাদের দক্ষ নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এত সম্মানজনক ও বিরল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহমর্মিতা আমাদের গভীরভাবে আলোড়িত করেছে। জানাজায় বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি, সমবেদনার চিঠি, শোকবার্তা, শোক বইয়ে লেখা অনুভূতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভালোবাসা—সবকিছুই ছিল অভূতপূর্ব সম্মানের প্রতিচ্ছবি।

সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সকল সদস্যের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মায়ের শেষ বিদায়ে আপনাদের পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধা জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।

বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাদের দেওয়া গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম ছিল আমার মায়ের জীবন ও অবদানের প্রতি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান। সমাধিস্থল পর্যন্ত তাকে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিটি মুহূর্তে জাতির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, অনেকেই আড়ালে থেকে, নীরবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি সফল করতে অবদান রেখেছেন। তাদের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা সম্ভব না হলেও, সবার প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইল। আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই পরিবার ও জাতি মর্যাদার সঙ্গে এই শোককে ধারণ করতে পেরেছে।

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার গভীর অভিবাদন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও শ্রদ্ধা নিবেদন আমাদের পরিবার কখনো ভুলবে না। এটি গণমানুষের মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ঐক্যের এক শক্তিশালী প্রকাশ।

তিনি বলেন, শোক ও স্মরণের এই সময়ে যারা জিয়া পরিবার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা আমাদের শক্তি জুগিয়েছে, যা আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে আগামীর বাংলাদেশ গঠনে বহন করে চলব—ইনশাআল্লাহ।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা