মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৩°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

এপস্টিন কেলেঙ্কারির ছায়া ইয়র্ক পরিবারে: ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় প্রিন্সেস বিয়াট্রিচ ও ইউজিনি

এপস্টিন কেলেঙ্কারির ছায়া ইয়র্ক পরিবারে: ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় প্রিন্সেস বিয়াট্রিচ ও ইউজিনি

যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের ইয়র্ক শাখা এখন এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর ও তাঁর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই সংকটের প্রভাব যে তাঁদের দুই কন্যা—প্রিন্সেস বিয়াট্রিচ ও প্রিন্সেস ইউজিনিকেও গ্রাস করছে, তা সাম্প্রতিক প্রকাশিত নথিপত্রে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একাধিক ই–মেইল ও নথি থেকে জানা যায়, যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে এই দুই রাজকুমারীর যোগাযোগ আগে ধারণা করা সময়ের চেয়েও গভীর ছিল। এসব তথ্য সামনে আসার পর রাজপরিবারে তাঁদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

নথি অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনকর্মে বাধ্য করার মামলায় সাজা ভোগের পর মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মায়ামিতে এপস্টিনের সঙ্গে একটি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছিলেন বিয়াট্রিচ ও ইউজিনি। সে সময় ইউজিনির বয়স ছিল ১৯ বছর এবং বিয়াট্রিচের বয়স ২১। আরও কিছু ই–মেইলে দেখা যায়, এপস্টিন তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে বা বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানোর মতো বিষয়েও রাজকুমারীদের যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

বর্তমানে বিয়াট্রিচের বয়স ৩৭ এবং ইউজিনির ৩৫ বছর। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে প্রকাশ পাওয়া এসব নথি তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

রাজকীয় বিষয়াবলি বিশ্লেষক রিচার্ড পামার বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার বিষয়টি জনমনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দেবে। তবে রাজপরিবার–বিষয়ক সাংবাদিক ভিক্টোরিয়া মারফি মনে করেন, ই–মেইলগুলো অত্যন্ত অস্বস্তিকর হলেও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ এখনো রাজকুমারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল।

তিনি বলেন, সেই সময়ে এপস্টিনের সব অপরাধ প্রকাশ্যে আসেনি। যদি রাজকুমারীদের কোনো সতর্কবার্তা না দেওয়া হয়ে থাকে, তবে পারিবারিক সফরের অংশ হিসেবে ওই মধ্যাহ্নভোজে তাঁদের উপস্থিতিকে পুরোপুরি অস্বাভাবিক বলা যায় না।

তবে অ্যান্ড্রুকে নিয়ে লেখা বই এনটাইটেলড–এর লেখক অ্যান্ড্রু লনি ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁর মতে, রাজকুমারীরা তখন প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন এবং তাঁদের ‘পরিস্থিতির শিকার’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তিনি বলেন, এপস্টিন ও ইয়র্ক পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক।

নথিতে এমন তথ্যও পাওয়া গেছে যে, একাধিক সফরে এপস্টিন ইয়র্ক পরিবারের উড়োজাহাজভাড়ার অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। একটি ই–মেইলে ‘সব টিকিটের মোট দাম’ উল্লেখ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৮০ ডলার। পাশাপাশি, সারা ফার্গুসনের কাছে এপস্টিনের অনুরোধের কথাও উঠে এসেছে—যাতে তাঁর কন্যারা এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন বা তাঁদের সহায়তা করেন।

এই কেলেঙ্কারির প্রভাব পড়েছে রাজকুমারীদের দাতব্য ও পেশাগত কর্মকাণ্ডেও। প্রিন্সেস ইউজিনি যে ‘অ্যান্টি–স্ল্যাভারি কালেক্টিভ’ দাতব্য সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা, সেটির অনুদান নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। সংস্থাটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যেখানে অনুদান ছিল প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪৮ হাজার পাউন্ডে।

দাতব্য কার্যক্রমের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও আলোচনায় এসেছেন দুই বোন। বিয়াট্রিচ একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, আর ইউজিনি কাজ করছেন মেফেয়ারের একটি আর্ট গ্যালারিতে। যদিও এসব প্রতিষ্ঠানে তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ নেই, তবু পারিবারিক কেলেঙ্কারির ছায়া তাঁদের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রাজপরিবারের হয়ে সরাসরি দায়িত্ব না থাকলেও, নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিয়াট্রিচ ও ইউজিনি এখন অনেকটাই আড়ালে থাকার চেষ্টা করছেন। বিশ্লেষক পামারের ভাষায়, ‘এই বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখতে না পারলে পরিস্থিতি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকেও বিষাক্ত করে তুলতে পারে।’

ইয়র্ক পরিবারের সম্মান যখন বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তখন এই দুই রাজকুমারীর জন্য সামনে দিনগুলো যে আরও সতর্কতা ও ভারসাম্যের পরীক্ষা হয়ে উঠবে, তা বলাই যায়।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা