সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৩°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

গাজা অবরোধ ভাঙতে নতুন নৌ-অভিযানের ঘোষণা

গাজা অবরোধ ভাঙতে নতুন নৌ-অভিযানের ঘোষণা: ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’তে এবার ১০০ জাহাজ

গাজায় ইসরাইলি অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আবারও বড় পরিসরের নৌ-অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীরা। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলনকারী জোট জানিয়েছে, তাদের আসন্ন অভিযানে প্রায় ১০০টি জাহাজ অংশ নেবে। এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফ্লোটিলার ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, আগামী মার্চ মাসে ইতালি, স্পেন ও তিউনিসিয়া থেকে জাহাজগুলো গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে গাজামুখী একটি নৌবহর ইসরাইলি নৌবাহিনীর হাতে আটক হলেও এবার আরও বড় পরিসরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, এবারের ফ্লোটিলায় প্রায় এক হাজার চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রকৌশলী ও যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারী অংশ নেবেন। তাদের দাবি, এই অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া নয়; বরং গাজার ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাজার মানবিক সংকটের দিকে আরও জোরালোভাবে আকর্ষণ করাও এই উদ্যোগের একটি বড় লক্ষ্য।

সমুদ্রপথের পাশাপাশি একটি বড় স্থলপথের কাফেলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আয়োজকেরা। তিউনিসিয়া ও মিশর হয়ে গাজা সীমান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হলেও মিশরীয় কর্তৃপক্ষ এই কাফেলাকে অনুমতি দেবে কি না-তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অতীতে এমন উদ্যোগে কায়রোর পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মান্ডলা ম্যান্ডেলা বলেন, এই আন্দোলনের লক্ষ্য কেবল ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তার ভাষায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় যেভাবে বৈশ্বিক চাপের মাধ্যমে বর্ণবাদী শাসনের অবসান ঘটানো হয়েছিল, একইভাবে আন্তর্জাতিক সংহতির মাধ্যমেই গাজা অবরোধের অবসান সম্ভব। তিনি বলেন, এই লড়াই ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে একটি বৈশ্বিক অবস্থান।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে কয়েক হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে এবং তা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। তবে অধিকারকর্মীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, অবরোধের কারণে গাজার অধিকাংশ মানুষ এখনও শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং বাস্তবে ত্রাণ সাধারণ মানুষের কাছে পর্যাপ্তভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

আয়োজকেরা স্বীকার করেছেন, এবারও ইসরাইলি নৌবাহিনী তাদের যাত্রা আটকে দিতে পারে। তবুও তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, গাজায় শারীরিকভাবে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও এই ফ্লোটিলা বিশ্ববাসীর কাছে গাজার মানুষের প্রতি সংহতি ও প্রতিবাদের বার্তা পৌঁছে দেবে। তাদের ভাষায়, অবরোধ ভাঙা না পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা