গাজার দুর্ভিক্ষকে 'মানবতার ব্যর্থতা' বললেন জাতিসংঘ মহাসচিব
গাজা নগরী ও তার আশপাশের এলাকায় চলমান দুর্ভিক্ষকে ‘মানবতার ব্যর্থতা’ এবং ‘মানবসৃষ্ট বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, “যখন মনে হচ্ছিল গাজায় চলমান ভয়াবহতা বর্ণনা করার মতো আর কোনো শব্দ নেই, তখন একটি নতুন শব্দ যোগ হলো—দুর্ভিক্ষ।”
আইপিসির প্রতিবেদন ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ প্যানেল (IPC) গাজায় দুর্ভিক্ষ চলার ঘোষণা দিয়েছে। IPC জানিয়েছে, গাজায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত ব্যাপক সহায়তা না পৌঁছালে দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে।
তবে ইসরায়েল IPC-এর এই প্রতিবেদনকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যা' বলে দাবি করেছে এবং বলেছে যে 'গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই'। যদিও ইসরায়েলের এই দাবি বহু মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং যুক্তরাজ্যসহ তাদের অনেক মিত্র দেশের বিবৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
বিভিন্ন পক্ষের তীব্র প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার এই দুর্ভিক্ষকে 'সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য' বলে মন্তব্য করেছেন এবং এর জন্য ইসরায়েলের পরিকল্পিত বাধাকে দায়ী করেছেন। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNRWA-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এটিকে 'ইসরায়েলি সরকারের পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা মানবসৃষ্ট অনাহার' বলে অভিহিত করেছেন। একইভাবে, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক দুর্ভিক্ষকে ইসরায়েলের অবৈধ পদক্ষেপের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইসরায়েল সরকার (গাজায়) সহায়তা ঢুকতে না দেওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গাজার জনগণের জন্য খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ নিশ্চিত করার 'স্পষ্ট ও সংশয়হীন দায়িত্ব' ইসরায়েলের রয়েছে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।