মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৯৫°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

গজলের সুরে শুরু, ভোটের অনুরোধে শেষ-হবিগঞ্জ-৪ এ তাহেরীর ব্যতিক্রমী নির্বাচনী প্রচারণা

গজলের সুরে শুরু, ভোটের অনুরোধে শেষ—হবিগঞ্জ-৪ এ তাহেরীর ব্যতিক্রমী নির্বাচনী প্রচারণা

গজলের সুরে একযোগে কণ্ঠ মিলিয়ে গান ধরেন উপস্থিত মানুষ। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা যেন ভরে ওঠে এক ভিন্ন আবহে। গজল শেষ হতেই পরিবেশের ছন্দ বদলে যায়। শান্ত, ভারী ও আবেগঘন কণ্ঠে মাইক হাতে বক্তা বলে ওঠেন, ‘ভাইজান, বাজান-ভোটটা দিয়েনও।’ ব্যতিক্রমী এই ভোট চাওয়ার দৃশ্য ঘিরে মুহূর্তেই এলাকায় সৃষ্টি হয় কৌতূহল ও আলোড়ন।

সম্প্রতি হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে মাধবপুর উপজেলার শাহপুর বাজারে এভাবেই নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা যায়। তার এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

প্রচারণা চলাকালে উপস্থিত মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই গজলের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান, আবার কেউ কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে আবারও মাইক হাতে নিয়ে তাহেরী বলেন, ‘আমি যদি এমপি হই, তাহলে মাধবপুরে ফ্রি ওয়াজ হবে।’ এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে হাসি ও করতালির সৃষ্টি হয়।

এই পুরো প্রচারণার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে ব্যতিক্রমী প্রচারণা বলছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছেন।

এ সময় গিয়াস উদ্দিন তাহেরী প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তার এজেন্টদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ভোটারদের কাছে দোয়া চান এবং আরও ১১টি পথসভা করার ঘোষণা দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৭২ জন। এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত এসএম ফয়সল এবং ইসলামিক ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন—খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, বাসদের মো. মুজিবুর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. রেজাউল মোস্তফা, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী ও এসএ সাজন।

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই আসনে প্রচারণার ভিন্নতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা