সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৯°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

হংকং অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪, নিখোঁজ প্রায় ৩০০ — এখনও নিয়ন্ত্রণে নয় আগুন

হংকংয়ের ঘনবসতিপূর্ণ তাই পো এলাকার বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। এখনও কমপক্ষে ২৮৯ জন নিখোঁজ, যাদের সন্ধান পেতে রাতভর উদ্ধারকাজ চলছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দেশটির কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীরা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানান।

শহরটির সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আগুন লাগার সময় ভবনের বাঁশের মাচা এবং বহিরাংশে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছিল, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার গতি বাড়িয়ে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার বিকেলে প্রায় ২ হাজার ফ্ল্যাটের নির্মিত আটটি বহুতল ভবনের বৃহৎ কমপ্লেক্সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তেই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের শিখা জানালা ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসছিল এবং জ্বলতে থাকা কাঠামোর অংশ নিচে পড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিল।

হংকং পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ড-সম্পর্কিত হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ কী—তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

৬৫ বছর বয়সী বাসিন্দা ইউন জানান, কমপ্লেক্সটিতে অনেক বয়স্ক মানুষ বাস করেন, যাদের অনেকে দ্রুত সরে যেতে পারেননি। রক্ষণাবেক্ষণের কারণে জানালাগুলো বন্ধ থাকায় অনেকে আগুনের বিষয়টি বুঝতেও পারেননি।

তিনি বলেন,
“অনেকে ঘরেই আটকা পড়েছিলেন। শুধু সম্পত্তি নয়—প্রাণহানিও ঘটেছে। এমনকি একজন ফায়ার ফাইটারও মারা গেছেন। আমি ভেঙে পড়েছি।”

শহরের প্রধান নির্বাহী জন লি জানিয়েছেন, ৯০০-র বেশি মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করা হচ্ছে। তবে তীব্র তাপমাত্রা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লোরে পৌঁছানো এখনো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক ডেরেক আর্মস্ট্রং চান।

তিনি বলেন,
“বাতাসের প্রবাহ ও উড়ে আসা জ্বলন্ত অংশের কারণে আগুন এক ব্লক থেকে আরেক ব্লকে ছড়িয়ে পড়েছে। সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।”

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তাই পো এলাকার এক বাসিন্দা সো জানান,
“এটা হৃদয়বিদারক। আমরা চাই—সবাই নিরাপদে ফিরে আসুক। সম্পত্তির ক্ষতি দেখার সময় এখন নয়।”

আরেক বাসিন্দা বলেন,
“আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বাইরে বেরোতেও ভয় লাগছে। আমরা পুরোপুরি অসহায়।”

হংকংয়ে একসময় দরিদ্র এলাকাগুলোতে বড় অগ্নিকাণ্ড প্রায় নিয়মিত ঘটলেও গত কয়েক দশকে কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালার কারণে এমন ঘটনা কমে যায়। তবে চলমান আগুন সেই পুরোনো আতঙ্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি, বিবিসি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা