“মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় রোববার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষণা”
জুলাই মাসে সংঘটিত অস্থিরতার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে আগামী রোববার, ১৬ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ গত ১৩ নভেম্বর এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
এই মামলায় অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলার মধ্যে এটি প্রথম যার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল মামলাটিকে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণার দিন ঘোষণা করে।
বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য। রায় ঘোষণার তারিখ জানানো হলে মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন,
“দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি এখন রায় ঘোষণার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা হবে বলে আশা করছি।”
তিনি আরও জানান, তদন্ত সংস্থা, ভুক্তভোগী পরিবার, সাক্ষী এবং বিচারকাজকে এগিয়ে নিতে যারা ভূমিকা রেখেছেন—সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন জানান,
“মামলা পরিচালনায় প্রসিকিউশন সহযোগিতা করেছে। আমার প্রত্যাশা, আমার মক্কেলরা ন্যায়বিচার পাবেন।”
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার পর মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পাঁচটি মামলার বিচার এগিয়ে নেয় ট্রাইব্যুনাল, যার মধ্যে বর্তমান মামলাটি দ্বিতীয়।
ছয় মাস ২৮ দিনের তদন্ত শেষে পাঁচ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়—
- হত্যা ও হত্যাচেষ্টা
- ব্যাপক আকারে নির্যাতন
- প্ররোচনা ও সহায়তা
- ষড়যন্ত্র
- অধস্তন বাহিনীর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যর্থতা
টানা ২৮ কার্যদিবসে মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১২ অক্টোবর থেকে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ উভয়ই পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করে।
সব প্রক্রিয়া শেষে, এখন পুরো দেশ অপেক্ষা করছে রোববার ঘোষণার জন্য নির্ধারিত রায়ের দিকে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।