সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৯°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র: ড. ইউনূসের সতর্কবার্তা, ভুয়া তথ্য ও সাইবার আক্রমণের আশঙ্কা

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সতর্ক করে বলেছেন, আগামি জাতীয় নির্বাচনকে বানচালের জন্য দেশি ও বিদেশি শক্তি সক্রিয় হতে পারে। তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন হবে চ্যালেঞ্জিং। হঠাৎ করে বড় ধরনের আক্রমণ বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শুরু হতে পারে, তবে আমাদের দৃঢ়ভাবে সেটি মোকাবিলা করতে হবে।”

বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আক্রমণ বলতে শুধু শারীরিক নয়, বরং সাইবার আক্রমণ, ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারকেও বোঝানো হয়েছে। যারা অতীতে স্বৈরাচারী শক্তির সহায়ক ছিল, তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না—তাই সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, বৈঠকে চারটি মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়—
১️⃣ সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ,
২️⃣ মাঠ প্রশাসনে কর্মকর্তাদের পদায়ন,
৩️⃣ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ,
৪️⃣ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তিনি জানান, পূর্ববর্তী তিনটি নির্বাচনে যারা যুক্ত ছিলেন, এবার তাদের পদায়ন করা হবে না। পোস্টিংয়ের সময় কর্মকর্তার দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা, রাজনৈতিক পটভূমি ও আত্মীয়স্বজনের প্রার্থিতা বিবেচনা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৯২,৫০০ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যার মধ্যে ৯০ হাজার সেনাসদস্য এবং বাকিরা নৌবাহিনীর সদস্য।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে। পাশাপাশি প্রবাসী, কারাবন্দি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভোটদানের জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে বলে জানান প্রেস সচিব।

অপতথ্য মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দুটি ফ্যাক্ট-চেক কমিটি গঠনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ভুয়া তথ্য শনাক্ত করে জনসাধারণকে সঠিক তথ্য জানাবে। এ উদ্যোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কারিগরি সহায়তা দেবে এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এআই-নির্ভর ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়ানো হতে পারে। এসব অপপ্রচার শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন উৎসবমুখর হবে না। তাই ভোটকেন্দ্রের নিয়ম, ভোট প্রদানের পদ্ধতি ও শৃঙ্খলা বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে।” এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে দ্রুত টিভিসি ও ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করে প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া, ইসি সচিব আখতার হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, র‌্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ অন্যরা।

ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

এদিন সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের কাছ থেকে আট খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিবেদনটি সহজ ভাষায় একটি বই আকারে প্রকাশ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তু সহজে বুঝতে পারে।”

প্রফেসর আলী রীয়াজ জানান, এ প্রতিবেদনে কমিশনের কার্যক্রম, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত, জনগণের প্রস্তাবনা ও আলোচনার সারাংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে এটি গবেষণার একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে উঠবে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা