অতীতের ভুলের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অতীতের করা সব ধরনের ভুলের জন্য গোটা জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
বুধবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“আমাদের দ্বারা যদি কেউ কোনোভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, ব্যক্তি হোক বা পুরো জাতি—আমি তাদের সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই। এই অনুশোচনা নিঃশর্ত, এতে কোনো সংকোচ নেই।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি জীবনে কখনো এই কথা প্রকাশ্যে বলিনি, আমাদের কোনো সহকর্মীও বলেননি। অতীতের সিনিয়র নেতারাও কখনো বলেননি যে আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে। কোনো দলই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা যদি নিজেদের ভুল স্বীকার না করি, তবে জাতির কাছ থেকে আস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।”
জামায়াতের আমির স্বীকার করেন, অতীতে সংগঠনের কিছু কর্মকাণ্ডে ভুল ও ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিল, যা এখন সংশোধনের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন,
“আমাদের যত ভুল হয়েছে—জানা বা অজানা—যারা সেগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
গণভোটের দাবি ও নির্বাচন প্রসঙ্গ
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। ইনশাআল্লাহ, ফেব্রুয়ারির রোজার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি প্রস্তাব করেন, নির্বাচন পূর্বে পিআরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে গণভোটের আয়োজন করা উচিত, যাতে জনগণের মতামত সরাসরি প্রতিফলিত হয়।
সংখ্যালঘু ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে অবস্থান
জামায়াতের আমির বলেন,
“আমরা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তারা নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করবে।”
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, তবে সেটা অবশ্যই সমতার ভিত্তিতে হতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য জামায়াতে ইসলামীতে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে, যা দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।