সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৯°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: কার্যকর হলো নতুন অধ্যাদেশ

পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে সরকার। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবনায় প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-কে যুগোপযোগী করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং উদীয়মান তামাকপণ্যের বিস্তার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।
কী কী পরিবর্তন এলো নতুন অধ্যাদেশে?
 তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ
ই-সিগারেট, ভ্যাপ, Heated Tobacco Product (HTP), Electronic Nicotine Delivery System (ENDS) ও নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকপণ্যকে তামাকজাত দ্রব্যের আওতায় আনা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন কোনো পণ্যকেও এই তালিকায় যুক্ত করতে পারবে।
 পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
সব ধরনের পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনে জরিমানা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় কড়াকড়ি
প্রিন্ট, টিভি, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, OTT প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিক্রয়কেন্দ্রে প্যাকেট প্রদর্শন, CSR কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
 শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রি নিষিদ্ধ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না।
 ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
ই-সিগারেট ও অন্যান্য ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ
এই ধরনের বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৯৭৫ সালের বিড়ি উৎপাদন (নিষিদ্ধ) অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
ক্ষতিকর মিশ্রণ ব্যবহার নিষিদ্ধ
তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আসক্তিমূলক বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
 স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক
তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো পণ্য বাজারজাত করা যাবে না।
 শাস্তি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা আরও কঠোর
আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ও কারাদণ্ডের মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোম্পানির বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা