মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৩°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে হরমুজ প্রণালি সাময়িক বন্ধের ঘোষণা ইরানের, বাড়ছে উত্তেজনা

পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে হরমুজ প্রণালি সাময়িক বন্ধের ঘোষণা ইরানের, বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চলার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সময়ে প্রণালি এলাকায় সরাসরি সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা উসকে দিতে পারে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার এবং ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানের এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উদ্বেগের’ কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রণালিটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সময় সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মহড়াও চালানো হয়। দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন আঘাত পেতে পারে, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যায়।

তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে তুলনামূলক নরম সুর শোনা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভায় নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে বলেন, একটি সম্ভাব্য চুক্তির জন্য ‘নতুন জানালা খুলেছে’। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আমলে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল হয়েছিল। বর্তমান আলোচনায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার অংশ নিচ্ছেন। ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় এই পরোক্ষ সংলাপ চলছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও ট্রাম্প নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ এখনো অতিক্রম করতে পারেনি ইরান।

ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দামে সামান্য ওঠানামা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক মহড়ার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝাতে চায় যে, তাদের বিরুদ্ধে হামলা হলে তার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও পড়বে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি USS Gerald R. Ford বর্তমানে ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে ইরান একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ আটকানোর চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছিল বলে জানা যায়।

পটভূমিতে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। গত জুনে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে ১২ দিন ধরে সংঘাত চলে এবং সে সময় আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। সেই সংঘাতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধের জন্য তেহরানের ওপর নতুন করে চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা