সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮২°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল: সুপ্রিম কোর্টে আজ চতুর্থ দিনের শুনানি

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ বাতিল করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনের শুনানি আজ চতুর্থ দিনের মতো সর্বোচ্চ আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ শুনানি নেবেন।

রোববারের শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন—প্রক্রিয়াগত ত্রুটি, উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তুর অসঙ্গতির কারণে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরিই বাতিল হওয়া উচিত। তবে বিকল্প সমাধান হিসেবে তিনি আদালতকে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশোধনীর কয়েকটি ধারাকে ‘মার্জনা’ বা সংরক্ষণ করার প্রস্তাব দেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজনের পক্ষে তিনি এ মতামত পেশ করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন গ্রহণ করে আজকের তারিখ নির্ধারণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান ও বিদুয়ানুল করিম।

গত ৩ ডিসেম্বর শুনানি শুরু হওয়ার পর টানা বৃহস্পতিবার ও রোববার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আজও তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুইটি পৃথক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছিলেন। এর প্রায় ১৪ বছর আগে, ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের মোট ৫৪টি ধারায় পরিবর্তন এনে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে।

হাইকোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক আপিল করা হয়। একটি সুজনের পক্ষ থেকে, একটি নওগাঁর মোফাজ্জল হোসেনের এবং আরেকটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জমা দেয়।

আপিল শুনানিতে সুজনের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া সংশোধনীর বিধান, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং আইনি দিকগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। ২০১১ সালের সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ ছাড়াও বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, নারীর সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা, ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল, রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সংশোধনসহ আরও বহু পরিবর্তন যুক্ত হয়।

জুলাই মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট করা হয়—একটি সুজনের এবং অন্যটি মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষ থেকে। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা এবং যুক্ত হওয়া ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি গণভোটসংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয় ও অন্যান্য অংশ সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বছরের ৮ জুলাই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজন ‘লিভ টু আপিল’ করেন। একইভাবে আপিল করেন মোফাজ্জল হোসেন ও জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার। পরে ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ অনুমতি দিলে তিনটি মামলাই শুনানিতে ওঠে।

এ মামলায় ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস এবং সেন্টার ফর ল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসি।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা