সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৯°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি: শিক্ষার্থীরা কি আবার ‘গিনিপিগ’?

শিক্ষার্থীদের আবারও ‘গিনিপিগ’ বানানোর ঝুঁকি!

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্তে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে আগে যেখানে শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক কার্যক্রম ছিল, সেখানে এবার যুক্ত করা হচ্ছে সামষ্টিক মূল্যায়ন বা লিখিত পরীক্ষা। পাশাপাশি তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বিদ্যমান মূল্যায়নের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে ৫০ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নে এবং বাকি ৫০ নম্বর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ে ৫০ নম্বরের মধ্যে ২৫ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং ২৫ নম্বর সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

অন্যদিকে, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ধর্ম শিক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং ৭০ নম্বর সামষ্টিক মূল্যায়নের (লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক) প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শিল্পকলা ও শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে ৫০ নম্বরের মধ্যে ১৫ নম্বর ধারাবাহিক এবং ৩৫ নম্বর সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

সময় ও বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজান মাসের কারণে অন্তত দুই মাস স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে নতুন এই মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করতে শিক্ষকদের ব্যাপক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে, যার জন্য কমপক্ষে তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে। সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ছয় মাসের বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

সমালোচকদের মতে, এমন অবস্থায় ২০২৭ সালে নতুন কারিকুলাম চালু হলে এই মূল্যায়ন পদ্ধতি আবার বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলক ‘গিনিপিগ’-এ পরিণত হবে এবং প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির নামে বিপুল অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে।

এনসিটিবি ও মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা

এনসিটিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগ্রহের কারণেই এই মূল্যায়ন নির্দেশিকার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে এনসিটিবির নিজস্ব মতামত খুব একটা প্রতিফলিত হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে এনসিটিবিকে দুই ভাগে বিভক্ত করার আলোচনা চলায়, নতুন করে কোনো বিতর্কে যেতে চায়নি সংস্থাটি।

কোটি টাকার বাজেট ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করতে গেলে প্রশিক্ষণ, উপকরণ ও ব্যবস্থাপনায় কয়েক শ কোটি টাকার বাজেট প্রয়োজন হবে। এটিকে একটি বড় প্রকল্পে রূপ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কী বলছে শিক্ষা অধিদপ্তর?

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, মূল্যায়ন নির্দেশিকাটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন সরকারের কারিকুলাম নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই এই মুহূর্তে নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে আমাদের সতর্কভাবে চিন্তা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেব না।”

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা