সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৫°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

রণক্ষেত্রে পরিণত ইরান, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার

রণক্ষেত্রে পরিণত ইরান, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণ গেল প্রায় দুই হাজার মানুষের

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করেছে দেশটির সরকার।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান সহিংসতায় বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন।

সরকারি ওই কর্মকর্তার দাবি, প্রাণহানির পেছনে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীদের’ হাত রয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে ঠিক কতজন সাধারণ মানুষ আর কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এত বিপুল প্রাণহানির বিষয়টি ইরানি কর্তৃপক্ষ এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি গত তিন বছরের মধ্যে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকট।

চরম মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। একদিকে সরকার বিক্ষোভকে ‘ন্যায্য অসন্তোষ’ হিসেবে স্বীকার করছে, অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালাচ্ছে।

তেহরানের অভিযোগ, এই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উসকানি দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকার দাবি করেছে, অজ্ঞাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, ইরানে চলমান বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। অনেক এলাকায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সামরিক মানের জ্যামার ব্যবহার করে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিঙ্ক সেবাও অকার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে রাতের আঁধারে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা গেছে। রয়টার্স এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা