মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৮°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

সেনাবাহিনীকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি: রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের পূর্ববর্তী বাস্তবতা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার প্রতীক। তাই সেনাবাহিনীকে সব ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি।

সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে নেওয়া হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাবজেলে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের আইনে যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। তাই বিচারাধীন এই সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়ে অগ্রিম মন্তব্য করা বা বিচার প্রভাবিত করার মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এটি কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, কোনোভাবেই পুরো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য করছেন, যা একেবারেই অনভিপ্রেত।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের রক্ষক। মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা থেকেই এই বাহিনীর জন্ম। দুর্যোগ, সংকট কিংবা রাষ্ট্রীয় অচলাবস্থায় সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থেকেছে।
জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি।

জুলাই বিপ্লবের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয়। তারা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকার রাজপথে ছাত্র-জনতা সেনাসদস্যদের প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছে, তা ছিল অভূতপূর্ব এক দৃশ্য।

বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার সময় সেনাবাহিনী প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিএনপি নেতারাও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকে।

সবশেষে বলা যায়—ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি সেনাবাহিনী সম্পর্কে কুৎসা বা মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করাও প্রয়োজন। সেনাবাহিনীকে বিতর্কে জড়ানো মানে দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা।
ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল পক্ষের উচিত দায়িত্বশীল আচরণ করা, যেন রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত না হয়।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা