শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণে নতুন কড়াকড়ি: কিছু ধারায় আপত্তি অংশীজনদের
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া মার্জিন ঋণের ওপর লাগামটানতে নতুন বিধিমালা তৈরিকরছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই নতুননিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শুধুভালো মৌলভিত্তির 'এ' শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিরশেয়ারেই ঋণ দেওয়া যাবে।এছাড়াও, ঋণ পেতে হলেএকজন বিনিয়োগকারীকে ন্যূনতম পাঁচ লাখ টাকানিজস্ব বিনিয়োগ থাকতে হবে। তবে, খসড়াবিধিমালার কিছু ধারা নিয়েশেয়ারবাজারের অংশীজনরা আপত্তি জানিয়েছেন।
খসড়া বিধিমালায় যেসব পরিবর্তন আসছে
নতুন বিধিমালা কার্যকরহলে মার্জিন ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রেবেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপকরা হবে। এগুলো হলো:
- শ্রেণিবিন্যাস:এখন থেকে শুধুমাত্র 'এ' শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে ঋণ দেওয়া যাবে।
- ন্যূনতমবিনিয়োগ:ঋণ পেতে হলে একজন বিনিয়োগকারীকে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা নিজস্ব বিনিয়োগ থাকতে হবে।
- পিইরেশিও সীমা: ৩০-এর বেশি পিই রেশিওর কোনো শেয়ারে ঋণ দেওয়া যাবে না। বর্তমানে এই সীমা ৪০ পর্যন্ত আছে।
- আনরিয়ালাইজডগেইন: কাগুজে মুনাফার বিপরীতে কোনো ঋণসুবিধা দেওয়া যাবে না।
- ঋণেরসীমা: নিজস্ব ১০০ টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ঋণ নেওয়া যাবে।
অংশীজনদের আপত্তির কারণ
যদিও এই নিয়মগুলোবাজারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে, কিছু ধারা নিয়েব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্টব্যাংকগুলোর আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, এসব ধারাবাস্তবসম্মত নয় এবং বাজারেনেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে বেশি আপত্তি এসেছেপিই রেশিও সংক্রান্ত একটি ধারা নিয়ে।প্রস্তাবিত নিয়মে বলা হয়েছে, কোনোকোম্পানির পিই রেশিও ৩০-এর বেশি হলেতাতে ঋণ দেওয়া যাবেনা। এর সঙ্গে আরওএকটি শর্ত যোগ করাহয়েছে: কোম্পানি ও তার সংশ্লিষ্টখাতের পিই রেশিওর মধ্যেযেটি কম, সেটিই ঋণেরজন্য বিবেচনা করা হবে। এইনিয়ম কার্যকর হলে ঋণযোগ্য কোম্পানিরসংখ্যা অনেক কমে যাবেবলে তারা মনে করছেন।
এছাড়া, আরও কিছু আপত্তিহলো:
- অন্যপ্রতিষ্ঠানেঋণ যাচাই: একজন বিনিয়োগকারীর অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ঋণ আছে কি না, তা যাচাই করার জন্য কোনো কার্যকর পদ্ধতি এখন পর্যন্ত নেই।
- ফোর্সডসেল: কোনো কোম্পানির শ্রেণি 'এ' থেকে 'বি' বা 'জেড'-এ নেমে গেলে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তার শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অংশীজনদের মতে, এতে একসঙ্গে অনেক শেয়ার বিক্রি করতে গেলে ক্রেতা খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।
বিএমবিএ এবং ডিবিএ-এরসভাপতিরা জানিয়েছেন যে, তারা খসড়াবিধিমালাটি পর্যালোচনা করছেন এবং শিগগিরই বিএসইসিকেতাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশগুলো জানাবেন। তারা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ওআন্তর্জাতিক মানের বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।