মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৪°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

সিলেটে ক্যান্সার চিকিৎসায় চরম অব্যবস্থা: একমাত্র রেডিওথেরাপি মেশিনেই ভরসা লাখো রোগীর

দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সিলেটে সেই তুলনায় চিকিৎসা অবকাঠামো ভয়াবহভাবে পিছিয়ে আছে। এক কোটি ১১ লাখ মানুষের জন্য পুরো অঞ্চলে কার্যকর রেডিওথেরাপি মেশিন রয়েছে মাত্র একটি—যেটি আবার চার মাস অচল থাকার পরও যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে। জনবল সংকট, যন্ত্রপাতির ঘাটতি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার চাপ পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নাজুক করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত নতুন ‘কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টার’ চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে।

🔍 দীর্ঘ সারি, সীমিত চিকিৎসা

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগ পরিদর্শনে দেখা যায়—সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থেরাপি চললেও রোগীর তুলনায় জনবল ও প্রযুক্তির ব্যবধান বিশাল। ১৫০ জন রোগীকে প্রতিদিন থেরাপি দেওয়া হলেও নতুন রোগীদের শিডিউল পেতে লাগছে প্রায় এক মাস।

ঢাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ভৈরব, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলাগুলোর রোগীরাও সিলেটে আসছেন। ফলে রোগীর চাপ আরও বাড়ছে।

🔍 কোন ক্যান্সার বেশি?

রেডিওথেরাপি বিভাগ সূত্রে জানা যায়—

পুরুষদের মধ্যে মাথা ও গলার ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি

বিশেষ করে মুখগহ্বর, গলা, নাক, থাইরয়েড ক্যান্সারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে

নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার ব্যাপক

মাথা-গলার রোগীদের টানা ৩৩ দিন থেরাপি নিতে হয়, ফলে শিডিউল সংকট আরও প্রকট হয়


🔍 এক মাসের আগে শিডিউল নেই

২৩ অক্টোবর চিকিৎসা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগী ২৩ নভেম্বরের শিডিউল পেয়েছেন। ২৪ অক্টোবর আসা রোগীরাও পেয়েছেন ২৪ নভেম্বরের তারিখ—অর্থাৎ অন্তত এক মাসের অপেক্ষা।

আগে এই অপেক্ষা ছিল ২–৩ মাস। অনারারি ভিত্তিতে দুইজন রেডিওথেরাপি টেকনোলজিস্ট যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও সমাধান এখনও দূর।

🔍 জনবল সংকট: পুরো বিভাগ সামলাচ্ছেন একজন

বিভাগটিতে থাকা উচিত—

১ জন অধ্যাপক

১ জন সহযোগী অধ্যাপক

১ জন সহকারী অধ্যাপক

৬ জন রেডিওথেরাপি টেকনোলজিস্ট (RTT)


কিন্তু বাস্তবতা—

দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন সহকারী অধ্যাপক পুরো বিভাগ পরিচালনা করছেন

RTT থাকার কথা ৬ জন—কাজ করছেন মাত্র ৪ জন (তার মধ্যে ২ জন অনারারি)


🔍 আবার মেশিন নষ্ট হওয়ার ভয়

২০১৮ সালে স্থাপিত মেশিনটি ২০২4 সালের শুরুর দিকে বিকল হয়ে চার মাস বন্ধ ছিল। মেরামতের পরও প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টা চালানোয় এটি যে কোনো সময় আবার অচল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

🔍 ১০০ শয্যার আধুনিক ক্যান্সার সেন্টার চালুর দাবি

ওসমানী হাসপাতালে নির্মাণাধীন ১০০ শয্যার কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টার প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখানে চারটি রেডিওথেরাপি মেশিন থাকলে প্রতিদিন অন্তত ৬০০ রোগী চিকিৎসা পাবেন।
তবে সরকার পরিবর্তনের পর কাজের গতি কমে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন—এ কেন্দ্র চালু হলে পুরো সিলেট বিভাগের ক্যান্সার চিকিৎসা বদলে যাবে।

🔍 চিকিৎসকদের মন্তব্য

রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রধান ডা. সরদার বনিউল আহমেদ বলেন—
“জনবল সংকটই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যেখানে তিনজন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে আমি একাই দায়িত্ব পালন করছি। তবুও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

তিনি জানান—গত এক বছরে ৯৮০ জন রোগী রেডিওথেরাপি নিয়েছেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) জানান—
“গুরুতর রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণ এবং নতুন ক্যান্সার সেন্টার চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।”

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা