মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৩°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও নতুন শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, বিশ্ববাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও নতুন শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, বিশ্ববাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর আগের শুল্ক আরোপকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলেও, তিনি ভিন্ন আইনি ধারায় নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬–৩ ভোটে রায় দেন যে ১৯৭৭ সালের International Emergency Economic Powers Act (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে সরাসরি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে—এ কথা রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

প্রধান বিচারপতি John Roberts বলেন, আইইইপিএ আমদানি নিয়ন্ত্রণের কিছু ক্ষমতা দিলেও শুল্ক আরোপ তার অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল আইইইপিএ প্রয়োগ করে ট্রাম্প বিশ্বের ১৫৭টি দেশের ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে নিজেদের জন্য শুল্কহার সমন্বয় করে নেয়।

তবে আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ সক্রিয় করে সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপ করেন। পরদিন সেই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়, যা এই ধারায় সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা। আইন অনুযায়ী, এই শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে; এর মেয়াদ বাড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

Reuters-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেকশন ১২২ অনুযায়ী আরোপিত শুল্কের আওতা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও জ্বালানি পণ্যকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। White House জানিয়েছে, বৈদেশিক লেনদেনের বড় ঘাটতি মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার Fox News-কে বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে উচ্চ হারে শুল্ক নির্ধারণ করে চুক্তি হয়েছে, সেগুলো বহাল থাকবে—যদিও নতুন ‘সর্বজনীন’ শুল্কহার তুলনামূলক কম।

উদাহরণ হিসেবে Malaysia ও Cambodia-এর পণ্যের ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ শুল্কহার বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে Indonesia-এর প্রধান সমঝোতাকারী এয়ারলাঙ্গা হার্তার্তো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৯ শতাংশ শুল্কচুক্তি আদালতের রায় সত্ত্বেও কার্যকর থাকবে।

নতুন শুল্ক কাঠামো বিভিন্ন দেশের ওপর ভিন্নমাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি রয়েছে, তাদের জন্য আইনি ও অর্থনৈতিক সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা আবারও জোরদার হয়েছে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা