সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৫°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

তদবির নয়, মেধাই হবে মানদণ্ড

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া 'তদবির সংস্কৃতি'র বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পদায়ন বা নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুপারিশ নয়, বরং যোগ্য মেধাবীদেরই সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে সরকার।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও জেলা সমিতির এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই সাহসী ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

তদবিরের চাপে অতিষ্ঠ প্রশাসন

বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি নেতিবাচক দিক তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শুধু তদবির আর তদবির। বেশিরভাগই বদলি বা পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার অনুরোধ। বিশ্বাস করুন, এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা মুশকিল।” তিনি মনে করেন, যদি ব্যক্তিগত সুবিধাকেই প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হবে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে।

তরুণদের প্রতি আহ্বান: উদ্যোক্তা হোন

দেশের বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের ছেলেরা শুধু চাকরি খুঁজে ঘুরে বেড়ায়। এভাবে সবার জন্য চাকরি পাওয়া অসম্ভব। আমাদের নিজেদের আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।” তিনি তরুণ প্রজন্মকে ছোট ছোট ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, সৃজনশীল মেধা ও পরিশ্রমই পারে জীবনমান বদলে দিতে।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও ঐক্যের ডাক

নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের অবহেলিত জনপদকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, চার লেনের আধুনিক মহাসড়ক নির্মাণ এবং অবকাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। তবে এই উন্নয়নের সুফল পেতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিভক্তি পরিহার করার তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, “সমিতির নামে বা অন্য কোনোভাবে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

সামাজিক প্রেক্ষাপট

অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলা সমিতির কয়েকশ সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সুধীজনরা মন্ত্রীর ‘মেধাভিত্তিক প্রশাসন’ গড়ার প্রত্যয়কে সাধুবাদ জানান। ইফতারের আগে দেশের সমৃদ্ধি এবং ঠাকুরগাঁওবাসীর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা