মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৩°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

ট্রাম্প ইস্যুতে তর্কের পর টেক্সাসে বাবার গুলিতে প্রাণ গেল যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তরুণীর

ট্রাম্প ইস্যুতে তর্কের পর টেক্সাসে বাবার গুলিতে প্রাণ গেল যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তরুণীর

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বাবার গুলিতে নিহত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের বংশোদ্ভূত তরুণী লুসি হ্যারিসন। তাঁর মৃত্যু ঘিরে শুরু হওয়া তদন্তের শুনানিতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুনানিতে জানানো হয়, ঘটনার দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বাবা–মেয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।

২৩ বছর বয়সী লুসি হ্যারিসন যুক্তরাজ্যের চেশায়ার কাউন্টির ওয়্যারিংটনে বসবাস করতেন। গত বছরের ১০ জানুয়ারি ছুটিতে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তিনি টেক্সাসের ডালাসসংলগ্ন শহর প্রসপারে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও কলিন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি লুসির বাবা ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে সম্মত না হওয়ায় তখন কোনো মামলা হয়নি।

পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের করোনার আদালত লুসির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে আলাদা তদন্ত শুরু করে। সেই শুনানিতে লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার আদালতকে জানান, ঘটনার দিন সকালে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে বাবা–মেয়ের মধ্যে ‘বড় ধরনের ঝগড়া’ হয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।

লিটলার বলেন, ছুটিতে তিনি লুসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লুসির বাবা প্রায়ই তাঁর কাছে একটি বন্দুক থাকার কথা বলতেন, যা লুসির মধ্যে বিরক্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি করত। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ক্রিস হ্যারিসন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাঁকে একাধিকবার পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। লুসি ছোট থাকতেই তাঁর বাবা যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

শুনানিতে ক্রিস হ্যারিসন উপস্থিত না থাকলেও আদালতে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার দিন তিনি মদ্যপ ছিলেন এবং প্রায় ৫০০ মিলিলিটার সাদা ওয়াইন পান করেছিলেন। লিটলারের বর্ণনায় জানা যায়, তর্কের একপর্যায়ে লুসি তাঁর বাবাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যদি তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হতেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর বাবার প্রতিক্রিয়া কী হতো। উত্তরে ক্রিস হ্যারিসন বলেন, তাঁর সঙ্গে আরও দুই মেয়ে থাকেন, তাই বিষয়টি তাঁকে খুব বেশি বিচলিত করত না। এই মন্তব্যে হতাশ হয়ে লুসি সিঁড়ি বেয়ে ওপরের তলায় চলে যান।

সেদিনই লুসি ও তাঁর প্রেমিক যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে লুসি রান্নাঘরে ছিলেন। তখন তাঁর বাবা তাঁকে হাত ধরে নিচতলার শয়নকক্ষের দিকে নিয়ে যান। লিটলার জানান, লুসিকে নিয়ে যাওয়ার মাত্র ১৫ সেকেন্ড পর একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর ক্রিস হ্যারিসন চিৎকার করে তাঁর স্ত্রী হেদারকে ডাকতে থাকেন।

দৌড়ে শয়নকক্ষে গিয়ে লিটলার দেখেন, লুসি দরজার সামনে মেঝেতে পড়ে আছেন এবং ক্রিস হ্যারিসন অস্বাভাবিকভাবে চিৎকার করছেন। তবে ক্রিস হ্যারিসন তাঁর বিবৃতিতে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা দেন। তাঁর দাবি, সেদিন তিনি মেয়ের সঙ্গে টেলিভিশনে অপরাধসংক্রান্ত সংবাদ দেখছিলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি জানান, তাঁর কাছে একটি বন্দুক আছে। লুসি সেটি দেখতে চাইলে তিনি তাঁকে শয়নকক্ষে নিয়ে যান।

ক্রিস হ্যারিসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের নিরাপত্তার জন্য কয়েক বছর আগে তিনি একটি ৯ এমএম আধা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল কিনেছিলেন, যা খাটের পাশের ক্যাবিনেটে রাখা ছিল। তিনি বলেন, বন্দুকটি দেখানোর সময় হঠাৎ গুলির শব্দ হয় এবং কীভাবে ট্রিগারে তাঁর আঙুল চাপ পড়ে, তা তিনি মনে করতে পারছেন না।

তদন্তে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা লুসিয়ানা এস্কালেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্রিস হ্যারিসনের শ্বাসে মদের গন্ধ পেয়েছিলেন বলে জানান। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগে তাঁর মদ কেনার প্রমাণও পাওয়া গেছে। লুসি হ্যারিসনের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ইচ্ছাকৃত—তা নির্ধারণে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা