ট্রাম্পের শুল্কনীতি: যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ঘাটতি কমতে পারে ৪ লাখ কোটি ডলার
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ঘাটতি ৪ ট্রিলিয়ন বা ৪ লাখ কোটি ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (CBO) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। এটি আগের অনুমানের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ বেশি। CBO এর হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়তি শুল্কের কারণে দেশটির প্রাথমিক ঘাটতি ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার কমবে এবং সুদ প্রদানের দায় কমবে আরও ৭০০ বিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্পের দাবি ও বাজার প্রতিক্রিয়া
এই প্রতিবেদনের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আমি সঠিক।" তিনি দাবি করেন, শুল্ক থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে।
তবে এই শুল্কনীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত শুল্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও CBO-এর বিশ্লেষণে অর্থনীতির আকার ছোট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়নি।
রাজস্ব বৃদ্ধি এবং রেটিং সংস্থার অবস্থান
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আশা প্রকাশ করে বলেন, এ বছর শুল্ক রাজস্ব আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি আদায় হবে, যা দেশের ঋণ ও জিডিপি অনুপাত কমাতে সাহায্য করবে। CBO-এর অনুমান অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে শুল্ক থেকে আয় হবে প্রায় ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ও ফিচ তাদের রেটিং অপরিবর্তিত রেখেছে। তারা শুল্ক রাজস্ব বৃদ্ধিকে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করলেও বড় ধরনের ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই রাজস্ব বৃদ্ধি একটি সাময়িক প্রণোদনার মতো কাজ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, কারণ রপ্তানিকারকেরা তখন অন্য বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।