মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৩°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি শুরু

বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে পুনঃআপিলের শুনানি শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি শুরু হয়।

আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করছেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, আর রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত আছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচজন আবেদন করেন।

সংবিধান সংশোধন ও রায়ের পটভূমি

১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। পরে ১৯৯৮ সালে এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। তবে ২০০৫ সালে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে, মামলাটিতে সুপ্রিম কোর্ট আটজন অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ করে।

তাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন, টিএইচ খান, মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি এর বিরোধিতা করে বলেন, এটি সাংবিধানিক ভারসাম্য নষ্ট করে। ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক ও ড. এম জহির আংশিক সংস্কারের প্রস্তাব দেন।

শেষ পর্যন্ত, ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। পরে ওই রায়ের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই রায়ের পর থেকে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতন ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের এই শুনানিকে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা