মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | ঢাকা ৮৪°F
ই-পেপার
বাংলা | EN
The American Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদ

মেনু
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ভাষা: বাংলা | EN

যুদ্ধের মধ্যেও চীনে ইরানের তেল রপ্তানি অব্যাহত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে গেছে কোটি ব্যারেল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান থেকে চীনের উদ্দেশে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাঠিয়েছে ইরান, যার গন্তব্য ছিল মূলত চীন।

বুধবার (১১ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকার ট্র্যাকারস–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে এবং এসব তেলের গন্তব্য ছিল চীন। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। ফলে কোনো জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ করলেও সেটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

তেহরান থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজ হামলার শিকার হতে পারে। এ কারণে অনেক জাহাজ তাদের অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র বন্ধ করে দেয়। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার–এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।

কেপলারের ক্রুড তেল বিশ্লেষক নিহয়ে খিন সোয়ে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনই ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা। তাই এই তেলের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত চীনের দিকেই যেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর ইরান থেকে যাত্রা করা ছয়টি তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে তিনটি ছিল ইরানের পতাকাবাহী।

উল্লেখ্য, বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবহন হওয়া মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক তেলবাহী ট্যাংকার এখন ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথ ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি জাহাজ হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

 

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও খবর
সকল স্বত্ত্ব @ বস্টন বাংলা