যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় টালমাটাল পরিস্থিতি: সারাদেশে ৯০ বিচারক বরখাস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সারাদেশে বিচারক ঘাটতি তীব্র হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিকতম পদক্ষেপ হিসেবে নিউইয়র্কের ফেডারেল ভবনে অবস্থিত ইমিগ্রেশন কোর্ট থেকে আরও ৮ জন বিচারককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইমিগ্রেশন জাজ’-এর তথ্য উদ্ধৃত করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিক এই খবর প্রকাশ করেছে।
চলতি বছর জুড়ে দেশব্যাপী ইমিগ্রেশন কোর্ট থেকে মোট ৯০ জন বিচারককে বরখাস্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে নিউইয়র্কেই ছিলেন ৬ জন। এই বিশাল ঘাটতি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মামলার অগ্রগতি নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বিচারক সংকট আরও প্রকট হলে বহু আটক ব্যক্তি তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যূনতম সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতিমালা—যার অধীনে আটক ও বহিষ্কারের চাপ বেড়েছে—এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। অথচ আইন অনুযায়ী, বহিষ্কার আদেশের আগে প্রত্যেককে আদালতে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাওয়ার কথা।
বরখাস্ত হওয়া বিচারকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোর্টের সুপারভাইজিং বিচারক আমিনা এ. খান। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া ৯০ জনের বিপরীতে নতুন নিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩৬ জন, ফলে বিচারক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০০টিরও বেশি ইমিগ্রেশন কোর্টে ঝুলে আছে প্রায় ৩৭ লাখ মামলা—যার ওপর নির্ভর করছে রাজনৈতিক আশ্রয়, পারিবারিক কোটা, ভিসা সমন্বয় এবং বিভিন্ন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা সংবিধানসম্মত ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার পথে বাধা তৈরি করছে। বিচারক কমে যাওয়ায় বহু মামলার নতুন তারিখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পেছানো হয়েছে। এমনকি অনেক আশ্রয় আবেদন শুনানি ছাড়াই বাতিলের প্রক্রিয়ায় গেছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে এক আফগান অভিবাসীর গুলিতে ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্য নিহত হওয়ার পর প্রশাসন আফগানিস্তানসহ ১৯টি দেশের নাগরিকদের ভিসা নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি আশ্রয়–সংক্রান্ত ঝুলে থাকা মামলা স্থগিত এবং পারিবারিক কোটা ইমিগ্রেশনের প্রক্রিয়াও থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন,
একজনের অপরাধের দায় পুরো অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো হচ্ছে—যা অমানবিক এবং আইনের চেতনার পরিপন্থী।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।